বিরোধী দলে থাকতেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবে: তাসনিম জারা
- আপডেট সময় : ০৭:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা। এ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, ‘বিরোধী দলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’
সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রশ্ন তোলেন তাসনিম জারা।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। ৮৭ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা গত শনিবার মারা যান। তাঁকে পিরোজপুরে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি জানান। এ সময় তাঁরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন।
শনিবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কবরস্থানে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, এ দেশের সামাজিক রীতিতে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে সাধারণত কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার তরুণেরা কোদাল হাতে চলে আসেন। কেউ বাঁশ কেটে আনেন, কেউ চাটাই। মৃত ব্যক্তির দাফনে দেরি করতে নেই—এ শিক্ষা নিয়েই তিনি বড় হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
তাসনিম জারার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মানিক পশারীর মৃত্যু হলেও তাঁর পরিবারকে সারা দিন মরদেহ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়েছে। জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মিছিল করেছেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের বাইরে সেখানে আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তাসনিম জারা আরও লেখেন, মানিক পশারীকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্য স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এমনভাবে দিয়েছেন, যেন ওই এলাকার মাটির মালিকানা তাঁদের। তাঁর ভাষায়, একজন মানুষ নিজের পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত হতে পারবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও যেন তাঁদের হাতে।
তাসনিম জারা লেখেন, একসময় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ‘রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হতো। এমন বক্তব্য কতটা অন্যায়, তা জামায়াতের জানার কথা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ক্ষমতা কিছুটা হাতে আসতেই দলটির নেতা-কর্মীরা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন।
একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল উল্লেখ করে তাসনিম জারা অভিযোগ করেন, দলটির নেতা-কর্মীরা এখন ঠিক করে দিতে চাইছেন কে মুক্তিযোদ্ধা, কে ভুয়া; কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন এবং কার কবর কোথায় হবে।
জামায়াত নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, যথাযথ প্রক্রিয়া ও মানবিক মর্যাদার কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা মানতে নারাজ—এমন অভিযোগও করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তাসনিম জারা লেখেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সাথে ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে এমন আচরণ করেন। বিরোধী দলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’










