দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঘিরে চীনের নজরদারি
- আপডেট সময় : ১২:০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ সাবিনা শোলের কাছে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ তুলে সেটির ওপর নজরদারি শুরু করেছে চীন। একই দিনে তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনা কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে যায় তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড।
চীনের সামরিক বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস চার্লস্টন’ তাদের অনুমতি ছাড়াই স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোলের কাছাকাছি জলসীমায় প্রবেশ করে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, এ পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌম অধিকার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ কারণে জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
তবে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী বলেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি চীনা ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেনি। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলের জন্য কোনো একটি দেশের পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বলেও জানিয়েছে দেশটি।
মার্কিন নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যুক্তি দিয়ে থাকে।
প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জে চীন-তাইওয়ান মুখোমুখি
দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাংশে তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জের কাছেও মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের দাবি, চীনের কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ নিয়ন্ত্রিত জলসীমায় প্রবেশ করলে সেটিকে সতর্ক করতে ‘তাইচুং’ নামের একটি জাহাজ পাঠানো হয়।
এ সময় দুই পক্ষের জাহাজ থেকে মাইকে পাল্টাপাল্টি বার্তা দেওয়া হয়। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘তথাকথিত রিপাবলিক অব চায়নার অস্তিত্ব নেই।’ জবাবে তাইওয়ানের জাহাজ থেকে বলা হয়, ‘রিপাবলিক অব চায়না, তাইওয়ান, একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ।’
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ওই সময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত ছিল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগর?
দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ জলসীমার ওপর চীন সার্বভৌমত্ব দাবি করে। তবে ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও এ অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ নিয়ে দাবি রয়েছে। ফলে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক ও সামুদ্রিক বিরোধের কেন্দ্র।
স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোল নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ বিশেষভাবে তীব্র। গত মাসেও ওই এলাকার কাছে চীনা কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সঙ্গে ফিলিপাইনের একটি নৌযানের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। দুই পক্ষই ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করে।
অন্যদিকে, গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। তাইওয়ান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের আশপাশে চীনা কোস্ট গার্ডের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
একই দিনে দক্ষিণ চীন সাগরের দুটি এলাকায় এ ধরনের মুখোমুখি অবস্থান ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।









