জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান: বিদেশ ভ্রমণ-সরকারি ভোজে নিষেধাজ্ঞা, বিয়েতে এক পদ
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে বেশ কিছু কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ অর্ধেক করা, নতুন যানবাহন ও ভারী পণ্য কেনা বন্ধ, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি নৈশভোজ বাতিলের মতো পদক্ষেপ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে আগামী তিন মাসের জন্য এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। একই সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট বাজেটে ৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাত ছাড়া অন্যান্য স্থায়ী ও ভারী পণ্য কেনা বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি কাজে প্রয়োজনীয় নয় এমন স্থায়ী সম্পদ কেনাকাটাও স্থগিত করা হয়েছে।
বাধ্যতামূলক সরকারি সফর ও স্কলারশিপের আওতাভুক্ত ভ্রমণ ছাড়া আগামী তিন মাস সব ধরনের বিদেশ সফর বন্ধ থাকবে। একান্ত প্রয়োজনীয় বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের বিমানে ইকোনমি বা সর্বনিম্ন ভাড়ার শ্রেণির টিকিট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ব্যবহার ও সরকারি ব্যয় কমাতে কর্মকর্তাদের সম্ভব হলে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিকনফারেন্স ও অনলাইন সভা ব্যবহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিয়েতে এক পদের খাবার, রাত ৯টার মধ্যে বিপণিবিতান বন্ধ
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে বিয়ের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে অতিথিদের জন্য কেবল এক পদের খাবার পরিবেশনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া জ্বালানি ব্যবহার কমাতে দেশটির বিপণিবিতানগুলো রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মার্চেও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সে সময় দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ রাখার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ উৎসাহিত করা হয়েছিল।
এলএনজি সংকটে জ্বালানি খাতে চাপ
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে চাপ আরও বেড়েছে। একই সময়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম *ডন*-এর শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে পেট্রোলের দাম সামান্য কমানো হলেও হাই-স্পিড ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ০.৪৩ রুপি কমিয়ে ৩৯০.৭৯ রুপি করা হয়। বিপরীতে হাই-স্পিড ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩.৪৭ রুপি বাড়িয়ে ৪২৪.৯২ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার পেট্রোলে লিটারপ্রতি ১১৪ রুপি এবং ডিজেলে ১০০ রুপি শুল্ক ও কর আদায় অব্যাহত রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি ভর্তুকির উদ্যোগ
নতুন কৃচ্ছ্রসাধন নীতি নিয়ে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, জ্বালানি ত্রাণ প্যাকেজের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে ভোক্তাদের কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি জানান, বুধবার থেকে কার্যকর নতুন নীতির আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকরা নির্দিষ্ট মাসিক কোটা অনুযায়ী প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১০০ রুপি ভর্তুকি পাবেন।

















