বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখায় বর্তমান জ্বালানিসংকট: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:২৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) দুর্বল করে রাখার নীতিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। ফলে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইতিমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব কূপের মাধ্যমে প্রায় ৪৫০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান আরও সাতটি কূপের খনন শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধান
দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৫ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে। অফশোর ও অনশোরে গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন মজুত পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাড়ানো হবে এলএনজি আমদানি
এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশে সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।









