সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে আসিফ মাহমুদের দেশ ছাড়ার শঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুদক সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করল ইসি পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল, ১১ কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন দণ্ডপ্রাপ্তদের অবস্থান শনাক্ত হলে দেশে আনার ব্যবস্থা: চিফ প্রসিকিউটর ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক মেসিকে ছাড়াই নতুন যুগের শুরু আর্জেন্টিনার, দলে আসছে একাধিক চমক জোর করে শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করার বৈধতা নেই, পুনর্বহালের নির্দেশ হাইকোর্টের আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ

পাঁচজনের ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

একই রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ছয় আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলার আসামিরা শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন।

যে অভিযোগে যে সাজা

রায়ে ওবায়দুল কাদেরকে চারটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দ্বিতীয় অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাহাউদ্দিন নাছিমকে প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, দ্বিতীয় অভিযোগ থেকে খালাস এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে প্রথম ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং দ্বিতীয় অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

শেখ ফজলে শামস পরশ প্রথম অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও দ্বিতীয় অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন।

মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে পৃথক ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনকে প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ক্ষতিপূরণ নিহত-আহতদের

রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি কিংবা তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানো, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছে।

রায় ঘোষণার শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্রের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কেজি।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন সাক্ষীও রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এটি ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও আদালতের রায়ের বিষয়গুলো প্রতিবেদনে সেই প্রেক্ষিতেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাঁচজনের ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

একই রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ছয় আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলার আসামিরা শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন।

যে অভিযোগে যে সাজা

রায়ে ওবায়দুল কাদেরকে চারটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দ্বিতীয় অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাহাউদ্দিন নাছিমকে প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, দ্বিতীয় অভিযোগ থেকে খালাস এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে প্রথম ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং দ্বিতীয় অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

শেখ ফজলে শামস পরশ প্রথম অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও দ্বিতীয় অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন।

মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে পৃথক ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনকে প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ক্ষতিপূরণ নিহত-আহতদের

রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি কিংবা তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানো, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়নে ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছে।

রায় ঘোষণার শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্রের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কেজি।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন সাক্ষীও রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এটি ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও আদালতের রায়ের বিষয়গুলো প্রতিবেদনে সেই প্রেক্ষিতেই উপস্থাপন করা হয়েছে।