সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-নেপালের মতো ভারতেও সরকার বদলের চেষ্টা: আরএসএস-প্রধান দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঘিরে চীনের নজরদারি অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাসায় ডিবির অভিযান, মাদকসহ আটক ৮৪ ১৪ বছরেও চালু হয়নি বিআরটি, ২৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পর প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাদ্রিদ ডার্বিতে ১০ জনের রিয়ালকে হারাল অ্যাটলেটিকো জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দেশে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাবিরতি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গোপন বৈঠক: জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জন আটক

বাংলাদেশ-নেপালের মতো ভারতেও সরকার বদলের চেষ্টা: আরএসএস-প্রধান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। ছবি: পিটিআই

বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর অভিযোগ, ভারতকে দুর্বল ও বিভক্ত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি সক্রিয় রয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো যাবে—এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভারতের নাগপুরে আরএসএসের বিজয়া দশমী উৎসব উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ভাগবত। সংগঠনটির ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

ভাগবত বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এমন একটি ঝড় ধেয়ে আসছে, যা সংস্কৃতি, প্রচলিত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে অস্বীকার করে সবকিছু ধ্বংস করতে চায়। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে যাচ্ছে বলেই দেশটি এখন এসব শক্তির অন্যতম লক্ষ্যবস্তু।

তিনি বলেন, ভারতের অগ্রযাত্রা থামাতে এবং দেশ ও আরএসএসকে দুর্বল করতে বিভিন্ন মহল চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথ থেকে বিচ্যুত করতে চায়—এমন শক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে—এমন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, নেপাল ও ফ্রান্সের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন আরএসএস প্রধান।

ভাগবত বলেন, এসব দেশের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতার পালাবদল হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। অতীতেও এভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকারও ক্ষমতা হারায়।

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান অস্থিরতার পেছনে বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট শক্তি কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।

ভারতের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বক্তব্য

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ভাগবতের এই বক্তব্য এল।

ভারতের অভ্যন্তরেও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কর্মকাণ্ড বিদেশি শক্তির স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব শক্তি ভারতের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়।

ভাগবত বলেন, ভারতকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশটির দৃঢ় নীতি ও জনগণের সম্মিলিত শক্তি এসব উদ্যোগকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।

তবে ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে—ভাগবতের এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা তাঁর ভাষণের উদ্ধৃত অংশ থেকে স্পষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য মূলত বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশ-নেপালের মতো ভারতেও সরকার বদলের চেষ্টা: আরএসএস-প্রধান

আপডেট সময় : ১২:২১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর অভিযোগ, ভারতকে দুর্বল ও বিভক্ত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তি সক্রিয় রয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো যাবে—এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভারতের নাগপুরে আরএসএসের বিজয়া দশমী উৎসব উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ভাগবত। সংগঠনটির ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

ভাগবত বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এমন একটি ঝড় ধেয়ে আসছে, যা সংস্কৃতি, প্রচলিত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে অস্বীকার করে সবকিছু ধ্বংস করতে চায়। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে যাচ্ছে বলেই দেশটি এখন এসব শক্তির অন্যতম লক্ষ্যবস্তু।

তিনি বলেন, ভারতের অগ্রযাত্রা থামাতে এবং দেশ ও আরএসএসকে দুর্বল করতে বিভিন্ন মহল চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথ থেকে বিচ্যুত করতে চায়—এমন শক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে—এমন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, নেপাল ও ফ্রান্সের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন আরএসএস প্রধান।

ভাগবত বলেন, এসব দেশের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতার পালাবদল হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। অতীতেও এভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকারও ক্ষমতা হারায়।

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান অস্থিরতার পেছনে বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট শক্তি কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।

ভারতের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বক্তব্য

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ভাগবতের এই বক্তব্য এল।

ভারতের অভ্যন্তরেও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কর্মকাণ্ড বিদেশি শক্তির স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব শক্তি ভারতের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়।

ভাগবত বলেন, ভারতকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশটির দৃঢ় নীতি ও জনগণের সম্মিলিত শক্তি এসব উদ্যোগকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।

তবে ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে—ভাগবতের এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা তাঁর ভাষণের উদ্ধৃত অংশ থেকে স্পষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য মূলত বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন।