সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করল ইসি
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র, হলফনামা ও প্রতীকসংক্রান্ত যেসব বিষয় পরিপত্রের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছিল, সেগুলো এবার গেজেটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় প্রার্থীদের তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে বেশ কিছু বিধান সংশোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত সংশোধিত বিধিমালার গেজেট জারি করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসরণ করে প্রণীত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সর্বশেষ সংশোধন করা হয়েছিল।
সংশোধিত বিধিমালায় হলফনামায় প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্ন-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক করা হয়েছে। একইভাবে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কোনো প্রার্থী জামিনে থাকলে জামিন পাওয়ার আদালত-সত্যায়িত অনুলিপি হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়ার বিষয়টিও ঐচ্ছিক করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনার জন্য নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে (ফরম-১) প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্ট—যেকোনো একজনের ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। আগে শুধু প্রার্থীর হিসাব নম্বর দেওয়ার সুযোগ ছিল।
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘অভিযুক্ত’ বলতে কী বোঝাবে, সেটিও সংশোধিত বিধিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালত কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করলে ওই আসামিকে অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক আব্দুল মমিন সরকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পরিপত্রের মাধ্যমে যেসব বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে বিধিমালাটি হালনাগাদ করা হয়েছে। এর ফলে প্রার্থীদের তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করেছিল ইসি। পরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রতীকসহ নিবন্ধন পুনর্বহাল, এনসিপিসহ নতুন দলের নিবন্ধন এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিতের পর সংরক্ষিত প্রতীক তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। পাশাপাশি ‘না’ ভোটের বিধানও পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতীক তালিকায় সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০টি।
তফসিল ঘোষণার দিন ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন অংশীজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরও কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
পরবর্তীতে উপজেলা গঠনসহ প্রশাসনিক বিন্যাসে পরিবর্তনের কারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনসহ ১১টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইসির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সংশোধনী আকারে গেজেট প্রকাশ করে বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ সেপ্টেম্বর। সংশোধিত বিধিমালার ফলে মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় প্রার্থীদের তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের সুবিধার্থে করণিক ত্রুটি সংশোধন ও প্রতীকের ক্রমবিন্যাসেও সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক তালিকা বহাল রয়েছে।

















