দণ্ডপ্রাপ্তদের অবস্থান শনাক্ত হলে দেশে আনার ব্যবস্থা: চিফ প্রসিকিউটর
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে অবস্থান শনাক্ত করা গেলে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগের অধিকাংশই সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করেছেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।’
তিনি আরও বলেন, আসামিদের ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ এবং ব্যক্তিগত দায় সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
আমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের কথিত ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পর নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।
আসামিদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিরা ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতেন। তাদের বিরুদ্ধে বিচার চললেও তারা আদালতে এসে তা মোকাবিলা করেননি।
তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০ দিন পর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বাস্তবায়ন
পাঁচ আসামির সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
তবে ৩০ দিনের আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর রায় বাস্তবায়নে সরকারের আইনগত কোনো বাধা থাকবে না বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

















