সংবাদ শিরোনাম :
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক মেসিকে ছাড়াই নতুন যুগের শুরু আর্জেন্টিনার, দলে আসছে একাধিক চমক জোর করে শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করার বৈধতা নেই, পুনর্বহালের নির্দেশ হাইকোর্টের আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় সম্মতি, একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানাবে জোট কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং ফিল্ড ফায়ারিংয়ে দুর্ঘটনা: আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি সৌদি আরবের অনুরোধে সাড়া দেননি ট্রাম্প মাকে শেষবিদায় জানিয়ে কারাগারে ফিরলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় সম্মতি, একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানাবে জোট

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় সম্মতি, একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানাবে জোট

ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগে একটি যৌথ ঘোষণার খসড়ায় সম্মত হয়েছেন জোটের নেতারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, যৌথ ঘোষণায় কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে যেকোনো দেশের একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানানো হতে পারে। সম্মেলনের পরবর্তী পর্যায়ে ব্রিকস নেতারা নথিটি অনুমোদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্রিকসের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবারের সম্মেলনে যৌথ ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে জোটের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য যৌথ ঘোষণা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ঐকমত্যের চেষ্টা

রয়টার্সের চারটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা যৌথ ঘোষণার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এতে এমন ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই পক্ষই গ্রহণ করতে পারে।

এর আগে পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে এমন একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি করাই ব্রিকসের জন্য বড় পরীক্ষা, যা জোটের বিভিন্ন সদস্যের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগস্টে সংঘাতে কিছুটা বিরতি থাকলেও ওই সময়ে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনাও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে আগস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রভাব বাড়াতে চায় ব্রিকস

আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন প্রণয়নে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের দাবিও জোরালো করতে চায় ব্রিকসের সদস্যরা।

জোটটির কয়েকটি দেশ মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব তুলনামূলক বেশি। তাই উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস।

নয়াদিল্লি সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ জোটের অন্যান্য দেশের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামলে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাও নয়াদিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর জোটটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোতে বসবাস করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় সম্মতি, একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানাবে জোট

আপডেট সময় : ১২:০৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগে একটি যৌথ ঘোষণার খসড়ায় সম্মত হয়েছেন জোটের নেতারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, যৌথ ঘোষণায় কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে যেকোনো দেশের একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানানো হতে পারে। সম্মেলনের পরবর্তী পর্যায়ে ব্রিকস নেতারা নথিটি অনুমোদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্রিকসের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবারের সম্মেলনে যৌথ ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে জোটের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য যৌথ ঘোষণা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ঐকমত্যের চেষ্টা

রয়টার্সের চারটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা যৌথ ঘোষণার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এতে এমন ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই পক্ষই গ্রহণ করতে পারে।

এর আগে পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে এমন একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি করাই ব্রিকসের জন্য বড় পরীক্ষা, যা জোটের বিভিন্ন সদস্যের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগস্টে সংঘাতে কিছুটা বিরতি থাকলেও ওই সময়ে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনাও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে আগস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রভাব বাড়াতে চায় ব্রিকস

আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন প্রণয়নে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের দাবিও জোরালো করতে চায় ব্রিকসের সদস্যরা।

জোটটির কয়েকটি দেশ মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব তুলনামূলক বেশি। তাই উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস।

নয়াদিল্লি সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ জোটের অন্যান্য দেশের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামলে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাও নয়াদিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর জোটটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোতে বসবাস করে।