কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
- আপডেট সময় : ০১:৩২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর আবারও কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল।
তবে এর মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবারও কমে গেছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার পিক সময়ে আদানির কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এরপর দুই ঘণ্টা পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে। ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পিক সময়ে সরবরাহ নেমে আসে ৬৯১ মেগাওয়াটে। বৃহস্পতিবারও কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আদানির কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব জাতীয় গ্রিডে পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে।
কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে বন্ধ ইউনিটটি চালু করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ আবার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইউনিটটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
৮০০ মেগাওয়াটের এক ইউনিট বন্ধ
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে।
২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় বর্তমানে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই ব্যবহার করা যাচ্ছে।
এমনিতেই জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। এর মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।


















