বাব এল-মান্দেবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা
সৌদি আরবের অনুরোধে সাড়া দেননি ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০১:০০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ মায়ুনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে হুতিরা।
ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা শুক্রবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। মায়ুন দ্বীপটি পারিম নামেও পরিচিত। দ্বীপটি বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে দুটি অংশে ভাগ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়েমেনের ওই সরকারি কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে সরে যায়। এরপর হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌকা দ্বীপটিতে পৌঁছায়।
এএফপিকে ওই কর্মকর্তা বলেন, হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রণালির ওপর নজরদারি চালাতে পারে তারা।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হুতি যোদ্ধারা বাব এল-মান্দেবের উপকূলীয় এলাকাজুড়েও অবস্থান নিয়েছে। তাদের সামরিক যানবাহনে করে ওই এলাকায় চলাচল করতে দেখা গেছে।
কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব
তেল ও পণ্য পরিবহনের জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। লোহিত সাগরের প্রবেশপথ হিসেবে এটি সুয়েজ খালের সঙ্গে এশিয়া ও ইউরোপের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে যুক্ত করেছে।
প্রণালিটির আশপাশে চারটি কৌশলগত দ্বীপ রয়েছে—জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ। মায়ুনের আগে বৃহস্পতিবার জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেওয়ার দাবি করে হুতিরা।
সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদেরও অবরুদ্ধ করে রেখেছে হুতিরা। সেখানে দুই হাজারের বেশি সেনা অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানান, অবরুদ্ধ সেনারা কর্তৃপক্ষের কাছে খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছেন। অবরোধ থেকে তাদের সরিয়ে নিতে সেখানে বিমান পাঠানো প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বাব এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও হুতিদের পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম এল-আসাদ দাবি করেছেন, লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে।
আল-আরাবি আল-জাদিদকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
সৌদি আরবের অনুরোধে ট্রাম্পের ‘না’
এদিকে ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রথম ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প ওই অনুরোধে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন হুতিদের বিষয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করবে। ইতোমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থানরত ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা রিয়াদকে সামরিক নয়, এমন সহায়তা দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম দফার ফোনালাপের সময় হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর আসে। এর এক দিন পর শুক্রবার মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতিরা।


















