হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি
- আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আগামী ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত ৭০২টি হজ এজেন্সিকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সপ্তম পর্যায়ে ২২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে ছয় দফায় ৬৮০টি এজেন্সিকে যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য সৌদি আরব ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে। হজ নিবন্ধনের শেষ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
এজেন্সির জন্য যেসব শর্ত
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো যোগ্য এজেন্সি ২০২৭ হজ মৌসুমে হজযাত্রী নিবন্ধন না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হজযাত্রী নিবন্ধনের আগে যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা কোনো এজেন্সি এককভাবে অথবা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে পারলে সেই এজেন্সি বা সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সি হজযাত্রী পাঠাতে পারবে।
এজেন্সিগুলোকে ই-হজ সিস্টেমে ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ওই প্যাকেজই হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে চুক্তিপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে। প্যাকেজে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবা, অবস্থানের সময়, হোটেলের দূরত্ব এবং প্যাকেজের মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
প্রতিটি এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে। নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে না পারলে লিড এজেন্সির আওতাধীন অন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রী স্থানান্তর করে তাদের হজ পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তিতে জ্ঞানসম্পন্ন এবং হজ পরিচালনায় অভিজ্ঞ একজন গাইড নিয়োগ দিতে হবে। ই-হজ সিস্টেমে গাইড যুক্ত করার সময় তাঁর পাসপোর্ট ও হজ পরিচালনার অভিজ্ঞতার তথ্য দিতে হবে।
অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে নেওয়া যাবে না। কোনো এজেন্সি এমন উদ্যোগ নিলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাইসেন্স ও যোগ্যতা সংক্রান্ত নির্দেশনা
পরবর্তীতে কোনো এজেন্সি হালনাগাদ তথ্যসহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নাম পরবর্তী যোগ্য তালিকায় প্রকাশ করা হবে। যোগ্যতালিকা প্রকাশের পর কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে শাস্তি দেওয়া হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই ওই এজেন্সির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের শর্তে এজেন্সিগুলোকে যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি এজেন্সিকে হালনাগাদ হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর সনদ জমা দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।
যোগ্য তালিকায় থাকা এজেন্সি ছাড়া অন্য সব এজেন্সির প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে কোনো এজেন্সি যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে।
লিড এজেন্সি নির্ধারণে সময় ১২ সেপ্টেম্বর
হজ ২০২৭ মৌসুমে যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্সে অন্তর্ভুক্ত হয়ে লিড এজেন্সি নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যোগ্য হজ এজেন্সিগুলোর স্বত্বাধিকারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অংশীদারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার মধ্যে লিড এজেন্সির অধীনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সির সম্মতিপত্র পাঠাতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, হজ ২০২৭ মৌসুমের জন্য এ পর্যন্ত ৭০২টি এজেন্সি যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী এসব এজেন্সির গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করে লিড এজেন্সি নির্ধারণ করার কথা।
১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সপ্তম পর্যায়ের যোগ্য তালিকার এজেন্সিসহ যেসব এজেন্সি এখনো কোনো লিড এজেন্সির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাদের দ্রুত লিড নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ জন্য শনিবার বেলা ২টার মধ্যে লিড এজেন্সির অধীনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন এবং লিড এজেন্সির সম্মতিপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।


















