সংবাদ শিরোনাম :

ঈদ যাত্রায় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ ১৩ বার পড়া হয়েছে

ঈদ যাত্রায় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, ঢাকা ফ্ল্যাশ

ঈদ-উল ফিতরের ছুটি শুরু হয়ে গেল। অন্যবছরের তুলনায় অনেকটা স্বস্তিতেই কাটছে এবারের ঈদযাত্রা। ঘরমুখো মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে সন্তুষ্টির বাণী। তবে জনস্রোতের মধ্যে পরিবার নিয়ে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় কিছু বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হয়। জেনে নিন কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন ঈদযাত্রায়-

  • ১. ব্যাগপত্র চিহ্নিত রাখুন: যতসম্ভব হালকা প্যাকিং করার চেষ্টা করুন। ব্যাগের সংখ্যা সীমিত রাখুন। তবে রাস্তায় জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর জন্য একটি মাঝারি কাঁধের ব্যাগ সঙ্গে রাখুন। বাসে বা ট্রেনে একই চেহারার ব্যাগ অদল-বদল হয়ে যেতে পারে; আবার অনেকসময় কেউ অসৎ উদ্দেশে ইচ্ছা করেও আপনার ব্যাগ পাল্টে নিতে পারে। তাই আপনার লাগেজে কোন চিহ্ন দিয়ে রাখুন। হ্যান্ডেলের সঙ্গে রঙিন কোন ফিতা বেঁধে রাখতে পারেন; অথবা ব্যাগের গায়ে মার্কার দিয়ে নিজের নাম লিখে রাখতে পারেন।
  • ২. শুকনো খাবার ও ওষুধ: সঙ্গে থাকা কাঁধের ব্যাগটিতে হালকা খাবার ও পানীয় নিয়ে রাখুন। যাত্রায় শিশুদের বাইরে খাবার না দেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজেদের ইফতারের জরুরি ব্যবস্থা সঙ্গে রাখুন। এছাড়া বমি বা গ্যাসের ওষুধ সঙ্গে রাখুন। যাত্রায় এ দু’টি ওষুধ অত্যন্ত কাজে আসে। পরিবারে ডায়াবেটিস রোগী থাকলে অবশ্যই তার ওষুধ ও সঙ্গে মিষ্টি জাতীয় খাবার বা গ্লুকোজ রাখবেন। ইনসুলিনের জন্য বরফ দেওয়া জিপলক পলিব্যাগ বা ফ্লাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
  • ৩. যানবাহনের নিরাপত্তা: নিজস্ব অথবা ভাড়া করা যানবাহনে যাত্রা করলে অবশ্যই গাড়ির ফিটনেস, কাগজপত্র, ফুয়েল ইত্যাদি চেক করে রাখুন আগে থেকেই। রাস্তায় যেন কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয়।
  • ৪. ফিরতি টিকেট: বাড়ি যাওয়ার আনন্দে ফেরার কথা ভুলে গেলে চলবে না। ফিরতি টিকেট অগ্রীম কেটে রাখুন যেন কর্মক্ষেত্রে ফেরার সময় বাধ্য হয়ে অস্বস্তিকর যাত্রা করতে না হয়।
  • ৫: শিশুদের দিকে বিশেষ নজর: শিশুরা চঞ্চল হবে, সেটাই স্বাভাবিক। রাস্তায় অনেক নতুন জিনিস ও মানুষ দেখে কৌতুহল বোধ করবে। তবে কোনভাবেই আপনার শিশুকে একা চোখের আড়াল হতে দেবেন না। অনেক সময় যাত্রায় এলাকার লোক পরিচয় দিয়ে অনেকে আপনার শিশুকে কোলে রাখতে বা চকলেট কিনে দিতে নিয়ে যেতে চাইবে। এধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে আপনার শিশু ওয়াশরুমে যেতে চাইলে অবশ্যই নিজে সঙ্গে যাবেন।
  • ৬: অপরিচিত মানুষের মনোযোগ: অপরিচিত লোকের দেওয়া কিছু খাবেন না, এ কথা শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা। তবুও এই ভুল কেউ না কেউ করে ফেলেন। কেন হয় এমন? কারন দুষ্কৃতকারী আপনাকে কিছু খেতে দেওয়া আগে আপনার বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করবে। হয়তো কিছুক্ষণ গল্প করবে, বা আপনার এলাকার পরিচয় জেনে ওইসব তথ্য ব্যবহার করে আপনাকে মনে করাবে যে উনি আপনার শুভাকাঙ্খী। তাই যাত্রাপথে অপিচিত কারো সঙ্গে পরিচয় হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিশ্বাস করবেন না।
  • ৭: যাত্রাবিরতি: ব্যক্তিগত যানবাহনে যাত্রা করলে অপরিচিত স্থানে বিরতি নেবেন না। অন্যান্য যানবাহনের বিরতির জন্য মহাসড়কে যেসব জায়গা নির্ধারিত আছে, তার আশেপাশেই বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করুন। গাড়ির চালক সজাগ আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাসে যাত্রা করলে বিরতিতে নামার আগে বাসের নম্বর দেখে নিন। মূল্যবান কিছু বাসে রেখে নামবেন না। বিরতিতে নামার সময় আপনার শিশুর খেয়াল রাখুন। রাস্তার পাশের খাবার না খওয়ার চেষ্টা করুন।
  • ৮. গাড়ির জানালা সাবধান: ব্যক্তিগত গাড়ি অথবা বাস, যে বাহনেই যাত্রা করুন না কেন, গাড়ি থেমে থাকা অবস্থায় জানালা বন্ধ রাখবেন।

সতর্ক থাকুন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিন নিরাপদে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈদ যাত্রায় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

আপডেট সময় : ১১:৫৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক, ঢাকা ফ্ল্যাশ

ঈদ-উল ফিতরের ছুটি শুরু হয়ে গেল। অন্যবছরের তুলনায় অনেকটা স্বস্তিতেই কাটছে এবারের ঈদযাত্রা। ঘরমুখো মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে সন্তুষ্টির বাণী। তবে জনস্রোতের মধ্যে পরিবার নিয়ে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় কিছু বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হয়। জেনে নিন কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন ঈদযাত্রায়-

  • ১. ব্যাগপত্র চিহ্নিত রাখুন: যতসম্ভব হালকা প্যাকিং করার চেষ্টা করুন। ব্যাগের সংখ্যা সীমিত রাখুন। তবে রাস্তায় জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর জন্য একটি মাঝারি কাঁধের ব্যাগ সঙ্গে রাখুন। বাসে বা ট্রেনে একই চেহারার ব্যাগ অদল-বদল হয়ে যেতে পারে; আবার অনেকসময় কেউ অসৎ উদ্দেশে ইচ্ছা করেও আপনার ব্যাগ পাল্টে নিতে পারে। তাই আপনার লাগেজে কোন চিহ্ন দিয়ে রাখুন। হ্যান্ডেলের সঙ্গে রঙিন কোন ফিতা বেঁধে রাখতে পারেন; অথবা ব্যাগের গায়ে মার্কার দিয়ে নিজের নাম লিখে রাখতে পারেন।
  • ২. শুকনো খাবার ও ওষুধ: সঙ্গে থাকা কাঁধের ব্যাগটিতে হালকা খাবার ও পানীয় নিয়ে রাখুন। যাত্রায় শিশুদের বাইরে খাবার না দেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজেদের ইফতারের জরুরি ব্যবস্থা সঙ্গে রাখুন। এছাড়া বমি বা গ্যাসের ওষুধ সঙ্গে রাখুন। যাত্রায় এ দু’টি ওষুধ অত্যন্ত কাজে আসে। পরিবারে ডায়াবেটিস রোগী থাকলে অবশ্যই তার ওষুধ ও সঙ্গে মিষ্টি জাতীয় খাবার বা গ্লুকোজ রাখবেন। ইনসুলিনের জন্য বরফ দেওয়া জিপলক পলিব্যাগ বা ফ্লাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
  • ৩. যানবাহনের নিরাপত্তা: নিজস্ব অথবা ভাড়া করা যানবাহনে যাত্রা করলে অবশ্যই গাড়ির ফিটনেস, কাগজপত্র, ফুয়েল ইত্যাদি চেক করে রাখুন আগে থেকেই। রাস্তায় যেন কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয়।
  • ৪. ফিরতি টিকেট: বাড়ি যাওয়ার আনন্দে ফেরার কথা ভুলে গেলে চলবে না। ফিরতি টিকেট অগ্রীম কেটে রাখুন যেন কর্মক্ষেত্রে ফেরার সময় বাধ্য হয়ে অস্বস্তিকর যাত্রা করতে না হয়।
  • ৫: শিশুদের দিকে বিশেষ নজর: শিশুরা চঞ্চল হবে, সেটাই স্বাভাবিক। রাস্তায় অনেক নতুন জিনিস ও মানুষ দেখে কৌতুহল বোধ করবে। তবে কোনভাবেই আপনার শিশুকে একা চোখের আড়াল হতে দেবেন না। অনেক সময় যাত্রায় এলাকার লোক পরিচয় দিয়ে অনেকে আপনার শিশুকে কোলে রাখতে বা চকলেট কিনে দিতে নিয়ে যেতে চাইবে। এধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে আপনার শিশু ওয়াশরুমে যেতে চাইলে অবশ্যই নিজে সঙ্গে যাবেন।
  • ৬: অপরিচিত মানুষের মনোযোগ: অপরিচিত লোকের দেওয়া কিছু খাবেন না, এ কথা শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা। তবুও এই ভুল কেউ না কেউ করে ফেলেন। কেন হয় এমন? কারন দুষ্কৃতকারী আপনাকে কিছু খেতে দেওয়া আগে আপনার বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করবে। হয়তো কিছুক্ষণ গল্প করবে, বা আপনার এলাকার পরিচয় জেনে ওইসব তথ্য ব্যবহার করে আপনাকে মনে করাবে যে উনি আপনার শুভাকাঙ্খী। তাই যাত্রাপথে অপিচিত কারো সঙ্গে পরিচয় হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিশ্বাস করবেন না।
  • ৭: যাত্রাবিরতি: ব্যক্তিগত যানবাহনে যাত্রা করলে অপরিচিত স্থানে বিরতি নেবেন না। অন্যান্য যানবাহনের বিরতির জন্য মহাসড়কে যেসব জায়গা নির্ধারিত আছে, তার আশেপাশেই বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করুন। গাড়ির চালক সজাগ আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাসে যাত্রা করলে বিরতিতে নামার আগে বাসের নম্বর দেখে নিন। মূল্যবান কিছু বাসে রেখে নামবেন না। বিরতিতে নামার সময় আপনার শিশুর খেয়াল রাখুন। রাস্তার পাশের খাবার না খওয়ার চেষ্টা করুন।
  • ৮. গাড়ির জানালা সাবধান: ব্যক্তিগত গাড়ি অথবা বাস, যে বাহনেই যাত্রা করুন না কেন, গাড়ি থেমে থাকা অবস্থায় জানালা বন্ধ রাখবেন।

সতর্ক থাকুন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিন নিরাপদে।