খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল
- আপডেট সময় : ১১:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মূলত ঋণের সঙ্গে সুদ যুক্ত হওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামনে খেলাপি ঋণ কমে আসতে পারে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। এরপর মার্চ শেষে তা বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও পরবর্তী প্রান্তিকে আবার তা বেড়ে যায়।
এদিকে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি। এসব ব্যাংক বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে পরিচালিত হচ্ছে।
অনিয়মের প্রভাব
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
পুনঃতফসিলের সুযোগ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এ সময় ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ঋণগ্রহীতার ঋণ অনাদায়ী হয়ে পড়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়। এর ফলে একপর্যায়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে এলেও চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।









