সাজার বিরুদ্ধে বিদিশার আপিল, জামিন আবেদন নামঞ্জুর
- আপডেট সময় : ১১:১৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ফ্ল্যাট বিক্রির ঘটনায় রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। একইসঙ্গে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বিদিশাকে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছি। আদালত আপিলটি গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, বিদিশার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে এবং তিনি একজন নারী—এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে গত ২০ মে এ মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একইসঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।
সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ আগস্ট তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং তাঁকে টাকা বা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
মামলায় আরও দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে।









