[t4b-ticker] ইতিহাসে প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক বোমা মোতায়েন করল ভারত - Dhaka Flash



ব্রেকিং নিউজ:
আজ : ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, শনিবার প্রকাশ করা : জুন ৯, ২০২৬

  • কোন মন্তব্য নেই

    ইতিহাসে প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক বোমা মোতায়েন করল ভারত

    ইতিহাসে প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক বোমা মোতায়েন করল ভারত

    ইতিহাসে প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক বোমা মোতায়েন করল ভারত

    ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ঢাকা ফ্ল্যাশ

    ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড বা বোমা সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করেছে ভারত। বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিক শক্তির ওপর নজরদারি চালানো শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিপরাই)-এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

    সিপরাই-এর এই প্রতিবেদনটি কয়েক দশকের পুরোনো পারমাণবিক নীতি থেকে নয়াদিল্লির এক বড় ধরনের সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। এতকাল ভারতের নীতি ছিল শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো উৎক্ষেপণের ক্ষেপণাস্ত্র বা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা। তবে এবার নিজেদের পরমাণু নীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে ভারত।

    এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার একটি অংশকে কেবল ‘মজুত’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘সক্রিয়ভাবে মোতায়েনকৃত’ (অপারেশনালি ডেপ্লয়েড) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ মিসাইল সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত এই ১২টি পারমাণবিক বোমা যুক্ত করা হয়েছে। এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতিরই একটি স্পষ্ট সংকেত। এই প্রথমবারের মতো ভারত তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলোকে সরাসরি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করেছে কিংবা সরাসরি অপারেশনাল ফোর্সের ঘাঁটিতে মোতায়েন করেছে।

    সদ্য প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, গত এক বছরে ভারতের সামগ্রিক পারমাণবিক বোমার মজুতও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের পারমাণবিক বোমার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০টিতে, যা আগের বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। এই পরমাণু অস্ত্রগুলো মূলত ভারতের আকাশপথ, স্থলভাগ এবং সাবমেরিন চালিত নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিপক্ব ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ হিসেবে বিন্যস্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পরমাণু অস্ত্র সরাসরি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বাকি ১৭৮টি সুরক্ষিত মজুতে রয়েছে।

    সিপরাই-এর ধারণা, ভারত তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (এসএসবিএন) এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যেই শান্তিকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে ওয়ারহেড জুড়ে দেওয়ার এই নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে।

    তবে এই কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যেও ভারত তার দীর্ঘদিনের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘আগে আঘাত না করার’ নীতিতে অনড় রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত কখনই কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিজে থেকে আগে পারমাণবিক হামলা চালাবে না। কেবল ভারতীয় ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা ভারতীয় বাহিনীর ওপর যদি কোনো শত্রুদেশ পারমাণবিক হামলা চালায়, তবেই তার প্রতিশোধ বা পাল্টা জবাব হিসেবে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

    মূলত কোনো দেশকে আক্রমণ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে, সম্ভাব্য শত্রুদের যেকোনো আগ্রাসন থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতেই ভারত এই সীমিত অথচ অত্যন্ত কার্যকর পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখছে।

    সূত্র: এনডিটিভি।