ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মঈন খান বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী দুই দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দিয়ে প্রতিশোধ অস্ট্রেলিয়ার বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় হত্যা ‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমের‘ মনোনয়নে ফিল কলিন্স, ওয়েসিস, পিংক ও শাকিরা ইরানে দুই স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অর্ধ-শতাধিক পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি পাননি, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার আইভী কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান? ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

হাসনাতের পোস্ট ঘিরে এনসিপিতে বিভক্তি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫ ০ বার পড়া হয়েছে

হাসনাতের পোস্ট ঘিরে এনসিপিতে বিভক্তি!

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা ফ্ল্যাশ

হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। পোস্টটিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এনসিপির কিছু নেতা হাসনাতের বক্তব্যকে “শিষ্টাচারবহির্ভূত” বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ তার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, সেনাসদরের বরাতে নেত্র নিউজ হাসনাতের বক্তব্যকে “হাস্যকর ও অপরিপক্ক” বলে উল্লেখ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে একটি বিস্ফোরক পোস্ট দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে এবং এতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা রয়েছে। তার এই পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

হাসনাতের পোস্টের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে এনসিপির উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একটি বক্তব্য viral হয়। এদিকে, ঢাকার রাস্তায় সেনাবাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল কার্যক্রম করতে পারবে কি পারবে না, তা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে মন্তব্য, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।”

এনসিপির মুখ্যসংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী হাসনাতের পোস্টকে “শিষ্টাচারবহির্ভূত” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। তার এমন বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা উচিত হয়নি। আমরা মনে করি, এটা শিষ্টাচারবর্জিত একটি স্ট্যাটাস।”

এনসিপির অন্যান্য নেতারাও হাসনাতের পোস্ট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দলের নেতা সারজিস আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাসনাতের বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যেভাবে এই কথাগুলো ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা সমীচীন হয়নি।” সারজিস আরও দাবি করেন, গত ১১ মার্চ তাদের সেনানিবাসে ডেকে নেওয়া হয়নি। সারজিসের পোস্টের কমেন্টে দলের আরেক নেতা হান্নান মাসুদ বলেন, “হয় হাসনাত, না হয় সারজিস—যেকোনো একজন এ বিষয়ে মিথ্যা বলছেন।”

রোববার সুইডেনভিত্তিক নেত্র নিউজে সেনাসদরের বরাত দিয়ে বলা হয়, হাসনাতের বক্তব্য “অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ক গল্পের সম্ভার।”

সেনাবাহিনীকে ঘিরে ফেসবুক পোস্ট এর এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ, সেনাবাহিনী এবং বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হাসনাতের পোস্ট ঘিরে এনসিপিতে বিভক্তি!

আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা ফ্ল্যাশ

হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। পোস্টটিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এনসিপির কিছু নেতা হাসনাতের বক্তব্যকে “শিষ্টাচারবহির্ভূত” বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ তার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, সেনাসদরের বরাতে নেত্র নিউজ হাসনাতের বক্তব্যকে “হাস্যকর ও অপরিপক্ক” বলে উল্লেখ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে একটি বিস্ফোরক পোস্ট দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে এবং এতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা রয়েছে। তার এই পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

হাসনাতের পোস্টের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে এনসিপির উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একটি বক্তব্য viral হয়। এদিকে, ঢাকার রাস্তায় সেনাবাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল কার্যক্রম করতে পারবে কি পারবে না, তা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে মন্তব্য, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।”

এনসিপির মুখ্যসংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী হাসনাতের পোস্টকে “শিষ্টাচারবহির্ভূত” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। তার এমন বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা উচিত হয়নি। আমরা মনে করি, এটা শিষ্টাচারবর্জিত একটি স্ট্যাটাস।”

এনসিপির অন্যান্য নেতারাও হাসনাতের পোস্ট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দলের নেতা সারজিস আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাসনাতের বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যেভাবে এই কথাগুলো ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা সমীচীন হয়নি।” সারজিস আরও দাবি করেন, গত ১১ মার্চ তাদের সেনানিবাসে ডেকে নেওয়া হয়নি। সারজিসের পোস্টের কমেন্টে দলের আরেক নেতা হান্নান মাসুদ বলেন, “হয় হাসনাত, না হয় সারজিস—যেকোনো একজন এ বিষয়ে মিথ্যা বলছেন।”

রোববার সুইডেনভিত্তিক নেত্র নিউজে সেনাসদরের বরাত দিয়ে বলা হয়, হাসনাতের বক্তব্য “অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ক গল্পের সম্ভার।”

সেনাবাহিনীকে ঘিরে ফেসবুক পোস্ট এর এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ, সেনাবাহিনী এবং বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে।