ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী দুই দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দিয়ে প্রতিশোধ অস্ট্রেলিয়ার বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় হত্যা ‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমের‘ মনোনয়নে ফিল কলিন্স, ওয়েসিস, পিংক ও শাকিরা ইরানে দুই স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অর্ধ-শতাধিক পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি পাননি, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার আইভী কেন যুদ্ধ করছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান? ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

বাঁশখালীতে এস এস পাওয়ার প্লান্টে হত্যার ৯ বছর: চট্টগ্রামে শ্রদ্ধা, প্রতিবাদ ও প্রতিশ্রুতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫ ১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসঃ
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ISDE Bangladesh, CLEAN এবং BWGED-এর উদ্যোগে আজ চট্টগ্রামে ২০১৬ সালের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্লান্টে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে একটি প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হত্যাকান্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রাণহানি বন্ধ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের জোরালো দাবি জানানো হয়।

এই গণজমায়েতে “জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি” স্লোগানটি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা কয়লা ও এলএনজি প্রকল্পের মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরেন।

২০১৬ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্লান্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা, কৃষিজমি ও কবরস্থান রক্ষার দাবিতে যেসব মানুষ জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিজ্ঞা—“উন্নয়নের নামে আর যেন সাধারণ জনগণের প্রাণ না ঝরে।”

নারী নেত্রী ও এডাব কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু তার বক্তব্যে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ কেবল পরিবেশগতভাবেই ধ্বংসাত্মক নয়, এটি অর্থনৈতিকভাবেও টেকসই নয়।

বক্তারা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এবং কয়লা, এলএনজি ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে উল্লেখ করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবীতে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের দাবী পূরণের জন্য বর্তমান সরকারের কাছে আহ্ববান জানান।

চট্টগ্রাম ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্টের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্ট সাইন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডঃ খালেদ মিজবাহউজ্জামান বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং পরিবেশের জন্য ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল সৌর ও বায়ু শক্তির সম্ভাবনা, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন,
“বাঁশখালীর শিক্ষা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পরিহার করে আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।।”

মানববন্ধনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি টেকসই শক্তি ভবিষ্যতের জন্য তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আলোচনা ও প্রচারাভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, বোয়ালখালী উপজেলা বাংলাদেশ ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফ্রুটস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্ম জানে আলম, সুবজের যাত্রা নির্বাহী পরিচালক সায়রা বেগম, চিটাগাং ড্রিংকিং ওয়াটার ম্যানুফেকচার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফয়সল আবদুল্লাহ আদনান, অধিকার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ওসমান জাহাঙ্গীর, সিএসডিএফ’র প্রকল্প সমন্বয়কারী শাম্পা কে নাহার, আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসুচি সমন্বয়কারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ  অন্যান্যরা।

এমআই

নিউজটি শেয়ার করুন

বাঁশখালীতে এস এস পাওয়ার প্লান্টে হত্যার ৯ বছর: চট্টগ্রামে শ্রদ্ধা, প্রতিবাদ ও প্রতিশ্রুতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫ ১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসঃ
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ISDE Bangladesh, CLEAN এবং BWGED-এর উদ্যোগে আজ চট্টগ্রামে ২০১৬ সালের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্লান্টে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে একটি প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হত্যাকান্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রাণহানি বন্ধ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের জোরালো দাবি জানানো হয়।

এই গণজমায়েতে “জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি” স্লোগানটি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা কয়লা ও এলএনজি প্রকল্পের মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরেন।

২০১৬ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্লান্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা, কৃষিজমি ও কবরস্থান রক্ষার দাবিতে যেসব মানুষ জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিজ্ঞা—“উন্নয়নের নামে আর যেন সাধারণ জনগণের প্রাণ না ঝরে।”

নারী নেত্রী ও এডাব কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু তার বক্তব্যে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ কেবল পরিবেশগতভাবেই ধ্বংসাত্মক নয়, এটি অর্থনৈতিকভাবেও টেকসই নয়।

বক্তারা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এবং কয়লা, এলএনজি ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে উল্লেখ করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবীতে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের দাবী পূরণের জন্য বর্তমান সরকারের কাছে আহ্ববান জানান।

চট্টগ্রাম ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্টের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্ট সাইন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডঃ খালেদ মিজবাহউজ্জামান বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং পরিবেশের জন্য ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল সৌর ও বায়ু শক্তির সম্ভাবনা, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন,
“বাঁশখালীর শিক্ষা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পরিহার করে আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।।”

মানববন্ধনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি টেকসই শক্তি ভবিষ্যতের জন্য তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আলোচনা ও প্রচারাভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, বোয়ালখালী উপজেলা বাংলাদেশ ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফ্রুটস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্ম জানে আলম, সুবজের যাত্রা নির্বাহী পরিচালক সায়রা বেগম, চিটাগাং ড্রিংকিং ওয়াটার ম্যানুফেকচার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফয়সল আবদুল্লাহ আদনান, অধিকার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ওসমান জাহাঙ্গীর, সিএসডিএফ’র প্রকল্প সমন্বয়কারী শাম্পা কে নাহার, আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসুচি সমন্বয়কারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ  অন্যান্যরা।

এমআই

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
ট্যাগস :
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ঢাকা ফ্ল্যাশ

বাঁশখালীতে এস এস পাওয়ার প্লান্টে হত্যার ৯ বছর: চট্টগ্রামে শ্রদ্ধা, প্রতিবাদ ও প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৯:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসঃ
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ISDE Bangladesh, CLEAN এবং BWGED-এর উদ্যোগে আজ চট্টগ্রামে ২০১৬ সালের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্লান্টে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে একটি প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হত্যাকান্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রাণহানি বন্ধ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের জোরালো দাবি জানানো হয়।

এই গণজমায়েতে “জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি” স্লোগানটি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা কয়লা ও এলএনজি প্রকল্পের মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরেন।

২০১৬ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্লান্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা, কৃষিজমি ও কবরস্থান রক্ষার দাবিতে যেসব মানুষ জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিজ্ঞা—“উন্নয়নের নামে আর যেন সাধারণ জনগণের প্রাণ না ঝরে।”

নারী নেত্রী ও এডাব কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু তার বক্তব্যে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ কেবল পরিবেশগতভাবেই ধ্বংসাত্মক নয়, এটি অর্থনৈতিকভাবেও টেকসই নয়।

বক্তারা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এবং কয়লা, এলএনজি ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে উল্লেখ করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবীতে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের দাবী পূরণের জন্য বর্তমান সরকারের কাছে আহ্ববান জানান।

চট্টগ্রাম ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্টের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্ট সাইন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডঃ খালেদ মিজবাহউজ্জামান বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং পরিবেশের জন্য ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল সৌর ও বায়ু শক্তির সম্ভাবনা, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন,
“বাঁশখালীর শিক্ষা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পরিহার করে আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।।”

মানববন্ধনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি টেকসই শক্তি ভবিষ্যতের জন্য তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আলোচনা ও প্রচারাভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, বোয়ালখালী উপজেলা বাংলাদেশ ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফ্রুটস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্ম জানে আলম, সুবজের যাত্রা নির্বাহী পরিচালক সায়রা বেগম, চিটাগাং ড্রিংকিং ওয়াটার ম্যানুফেকচার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফয়সল আবদুল্লাহ আদনান, অধিকার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ওসমান জাহাঙ্গীর, সিএসডিএফ’র প্রকল্প সমন্বয়কারী শাম্পা কে নাহার, আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসুচি সমন্বয়কারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ  অন্যান্যরা।

এমআই

বাঁশখালীতে এস এস পাওয়ার প্লান্টে হত্যার ৯ বছর: চট্টগ্রামে শ্রদ্ধা, প্রতিবাদ ও প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৯:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসঃ
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ISDE Bangladesh, CLEAN এবং BWGED-এর উদ্যোগে আজ চট্টগ্রামে ২০১৬ সালের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্লান্টে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে একটি প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হত্যাকান্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রাণহানি বন্ধ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের জোরালো দাবি জানানো হয়।

এই গণজমায়েতে “জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি” স্লোগানটি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা কয়লা ও এলএনজি প্রকল্পের মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরেন।

২০১৬ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্লান্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা, কৃষিজমি ও কবরস্থান রক্ষার দাবিতে যেসব মানুষ জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিজ্ঞা—“উন্নয়নের নামে আর যেন সাধারণ জনগণের প্রাণ না ঝরে।”

নারী নেত্রী ও এডাব কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু তার বক্তব্যে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ কেবল পরিবেশগতভাবেই ধ্বংসাত্মক নয়, এটি অর্থনৈতিকভাবেও টেকসই নয়।

বক্তারা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এবং কয়লা, এলএনজি ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে উল্লেখ করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবীতে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের দাবী পূরণের জন্য বর্তমান সরকারের কাছে আহ্ববান জানান।

চট্টগ্রাম ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্টের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্ট সাইন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডঃ খালেদ মিজবাহউজ্জামান বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং পরিবেশের জন্য ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল সৌর ও বায়ু শক্তির সম্ভাবনা, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন,
“বাঁশখালীর শিক্ষা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পরিহার করে আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।।”

মানববন্ধনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি টেকসই শক্তি ভবিষ্যতের জন্য তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আলোচনা ও প্রচারাভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, বোয়ালখালী উপজেলা বাংলাদেশ ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফ্রুটস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্ম জানে আলম, সুবজের যাত্রা নির্বাহী পরিচালক সায়রা বেগম, চিটাগাং ড্রিংকিং ওয়াটার ম্যানুফেকচার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফয়সল আবদুল্লাহ আদনান, অধিকার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ওসমান জাহাঙ্গীর, সিএসডিএফ’র প্রকল্প সমন্বয়কারী শাম্পা কে নাহার, আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসুচি সমন্বয়কারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ  অন্যান্যরা।

এমআই