রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন আইনমন্ত্রী।
রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষা এবং তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে মোকাবিলা করতে পারলে এর স্থায়ী সমাধানের পথ সুগম হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই পথ সুগম হবে। সেই পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব। আমি প্রত্যাশা করি, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত হোক এবং তারা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাক।’
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরেও রোহিঙ্গা সংকটকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী এবং তাদের মানবাধিকার রক্ষায় দেশটির সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, রোহিঙ্গারা তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছিল, পরবর্তী সরকারগুলো সেভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেনি বা করতে পারেনি।’
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তবে এর আগে দেশের জনগণের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা জরুরি।
‘বাংলাদেশের মানুষকে দল-মত নির্বিশেষে সব মতভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে—এই ভূখণ্ড, এই বাংলাদেশ সবার আগে,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে দেশের মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদেও নাগরিকের দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতির বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট। বাংলাদেশ মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করার কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিরোধে পরিণত হয়নি।
‘এটি মানবাধিকারের বিষয়। হিউম্যান রাইটস বা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা বিষয়টিকে দেখি। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে,’ বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসার ওপর জোর দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিভিন্ন মহলের মতামত ও সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকেও সর্বোচ্চ নজর রয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ ও সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়টিও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়েই সংকটের সমাধানের পথে এগোতে হবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক চাপগোষ্ঠী ও ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তাদের সুপারিশ জাতীয় কমিটির কাছে তুলে ধরারও অনুরোধ করেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের সোশ্যাল প্রেসার গ্রুপ হিসেবে যে সুপারিশগুলো আসছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে স্থায়ী সমাধানের পথে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে।’
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়।
‘আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা মানুষ। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রয়েছে,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কৃতিগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে তারা ওই ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তারা কিছু সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি ও জায়গা থেকেই আমরা বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করার পক্ষে।’
আলোচনা সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম হক, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শাকিল আহম্মেদ, রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।







