[t4b-ticker] সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী - Dhaka Flash



ব্রেকিং নিউজ:
আজ : ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার প্রকাশ করা : এপ্রিল ২০, ২০২৬

  • কোন মন্তব্য নেই

    সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা ফ্ল্যাশ

    সরকার দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    আজ শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “৫৬ ধরনের প্রশ্ন করা হয়—হোয়াট ইজ দিস?” তিনি বলেন, বোর্ডগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা কে বেশি পাস করাবে—এটি লেখাপড়া নয়, পাস বেশি করানোর প্রতিযোগিতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এক বোর্ড আলাদা প্রশ্ন করবে—এটা কি হয়? আমরা সবাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, কেন একেক বোর্ডের আলাদা আলাদা প্রশ্ন হবে?

    শিক্ষামন্ত্রী জানান, একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করলে বলা হয়—হঠাৎ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, সেই জুজুবুড়ির ভয়ে থাকবো? প্রশ্নপত্র আউট হলে সেটি ডিভাইস থেকে আউট হবে, আমরা কি তা বুঝবো না? প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, ডিজিটাল কারচুপি ধরাও যায় এবং এ বিষয়ে সতর্ক হয়ে আইন পাস করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষকরাও একই প্রশ্নে বোর্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “একজন একবার ফেল করল, দুইবার ফেল করল, তিনবার ফেল করল—চারবার পর্যন্ত আপনারা পড়ান, রেজিস্ট্রেশন করেন। ফেল স্টুডেন্টের লিগ্যাসি ক্যারি করা কি শিক্ষকদের দায়িত্ব?” তিনি জানান, দুইটির বেশি সুযোগ দেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার মধ্যে বিরতির কারণে একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে দুটি বছর নষ্ট হয়। এই পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এই দুই পরীক্ষায় অংশ নেয়—জাতির জীবন থেকে এত বছর নষ্ট হচ্ছে।

    জনসংখ্যা অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদকে অভিশাপ মনে করা যাবে না। এটি তখনই অভিশাপ হয়, যখন যারা দেশ চালাচ্ছেন তারা কর্মক্ষম জাতি হিসেবে তাদের তৈরি করতে না পারেন।

    শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, মাদ্রাসায় আরবির সঙ্গে সঠিকভাবে কারিগরি শিক্ষা দিতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো বাজার দখল করা সম্ভব। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরিয়ান, জাপানিজ, চাইনিজ, ফরাসি ভাষার প্রোগ্রাম দেওয়া গেলে ভাষাজ্ঞান ও ন্যূনতম কারিগরি যোগ্যতা থাকলে শিক্ষার্থীরা সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

    শিক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি আগে বলেছিলেন ‘জিরো পারসেন্ট পাস করলে সেই স্কুল-মাদ্রাসার এমপিও বাতিল করতাম’, এবার তা করবেন না। কারণ হঠাৎ করে শিক্ষকরা সুশিক্ষক হয়ে যাবেন না, আবার আগের আইন রাখাও যায় না। তবে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শতভাগ পাসের প্রবণতা সৃষ্টি না হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজশাহী বিভাগ বরাবরই ভালো ফল করে—৯৪ শতাংশ থেকে আবার ৭৭ শতাংশে নেমে আসে। কেন এই ওঠানামা? তিনি বলেন, অন্য বোর্ডের সঙ্গে তুলনায় কেউ রাজশাহীকে ছুঁতে পারে না। কিন্তু বোর্ডে বোর্ডে প্রতিযোগিতা হয় কে বেশি পাস করাবে—এটি লেখাপড়া নয়, পাস বেশি করানোর প্রতিযোগিতা।