[t4b-ticker] সরকারের ১০০ দিনে সারাদেশে ৬০৫ হত্যাকাণ্ড: টিআইবি - Dhaka Flash



ব্রেকিং নিউজ:
আজ : ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার প্রকাশ করা : জুন ৭, ২০২৬

  • কোন মন্তব্য নেই

    সরকারের ১০০ দিনে সারাদেশে ৬০৫ হত্যাকাণ্ড: টিআইবি

    সরকারের ১০০ দিনে সারাদেশ ৬০৫ হত্যাকাণ্ড: টিআইবি

    সরকারের ১০০ দিনে সারাদেশ ৬০৫ হত্যাকাণ্ড: টিআইবি

    নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা ফ্ল্যাশ

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সারাদেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আজ রোববার (৭ জুন) ‘নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়কালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু। এ ছাড়া ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি ও ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি।

    টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও অরাজকতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।’

    জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের কাছে জনগণ সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করলেও— সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে সরকার, মন্তব্য করেন তিনি।

    সুশাসনে অগ্রগতি সীমিত

    অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সুশাসন নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অগ্রগতি এখনো সীমিত বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

    তবে শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পরিহার, মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন ও নজরদারি জোরদারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি, যা সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন।

    অন্যদিকে সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য নির্বাচনী ইশতেহার ও ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার’ সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করে টিআইবি। এতে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

    আইন ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ

    অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টিকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও— বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, গুম প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমনসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বাতিল বা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করে টিআইবি।

    দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোতে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়াকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    ‘এবার আমাদের পালা’ মানসিকতার সমালোচনা

    প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরে ‘এবার আমাদের পালা’ ধরনের মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের অভিযোগ তুলে ধরে টিআইবি জানিয়েছে, এটি নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থী।

    ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর হামলার ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, সাম্প্রদায়িকতা ও অসহিষ্ণুতার বিস্তার দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের জন্য অশনিসংকেত।

    আশাবাদ ও উদ্বেগের দ্বন্দ্ব

    টিআইবি তাদের প্রতিবেদনের উপসংহারে বলেছে, সরকারের প্রথম ১০০ দিন একদিকে সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক হলেও— সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘাটতি এখনো উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।