পরাজিতদের তালিকায় সবচেয়ে চমকপ্রদ নামটি হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া তৃণমূল সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীরা হেরেছেন, যাঁদের হাতে ছিল আবাসন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, শিল্প, পরিবহন, নারী ও শিশুকল্যাণ, তপশিলি ও অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।
রাজনৈতিক অঙ্ক: পরিবর্তনের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল রাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত দেয়। প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষে জোরালো হাওয়া তৈরি হয়েছে, যা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও ছাড়িয়ে গেছে।
যাঁরা হারলেন (২২ মন্ত্রীর তালিকা)
পরাজিত মন্ত্রীরা হলেন –
অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, সুজিত বসু, ইন্দ্রনীল সেন, বেচারাম মান্না, স্বপন দেবনাথ, বুলু চিক বড়াইক, প্রদীপ মজুমদার, বীরবাহা হাঁসদা, মানস ভুঁইয়া, মলয় ঘটক, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, উদয়ন গুহ, সন্ধ্যারানি টুডু, বঙ্কিম হাজরা, উজ্জ্বল বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শ্রীকান্ত মাহাতো ও সত্যজিৎ বর্মণ।
উল্লেখ্য, এই পরাজয় রাজ্যের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন পর্যবেক্ষকরা। এমনকি বিগত কয়েক দশকের নির্বাচনী ইতিহাসেও একাধিক মন্ত্রীর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
আগামীর দিশা
ফলাফল নিয়ে এখন পুরোদমে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তৃণমূলের ভিত কতটা দুর্বল হলো এবং বিজেপি কীভাবে এই ‘হাওয়া’কে আসল ক্ষমতায় রূপ দিতে পারে, তা নির্ধারণ হবে আগামী কয়েক ঘণ্টায়। দুই শিবিরেই চলছে জরুরি বৈঠক ও কৌশল নির্ধারণী আলোচনা।