বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫-এর জন্য মনোনীত হয়েও শেষ পর্যন্ত পুরস্কার থেকে বাদ পড়েছেন কবি মোহন রায়হান। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানিয়েছেন, ৪১ বছর আগে লেখা কর্নেল তাহেরকে নিয়ে ‘তাহেরের স্বপ্ন’ শীর্ষক কবিতাটিও সেই অভিযোগের অন্যতম অংশ।
গত সোমবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ ঘোষণা করা হয়। একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কবিতা শাখায় মোহন রায়হানের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলা একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। কিন্তু পুরস্কার প্রদানের সময় মোহন রায়হানের নাম বাদ দেওয়া হয়।
পুরস্কার বাতিল প্রসঙ্গে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আজকের বলেন, “মোহন রায়হান একজন কবি বটে। তাঁকে বাংলা একাডেমি নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু সরকারের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সরকারকে সেগুলো আমলে নিতেই হয়। আমরা অভিযোগগুলো রেখেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
মোহন রায়হানের দাবির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “৪১ বছর আগের একটি কবিতার বিষয়টিও একটি অভিযোগ হিসেবে জমা পড়েছে। আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখে একটি সমাধানে পৌঁছাব। অভিযোগ পেলে আমলে নেওয়াই সরকারের কাজ। সেটা না করলে তো আপনারা (সাংবাদিক) প্রশ্ন তুলবেন। বিষয়টি তেমন জটিল কিছু নয়। আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে, প্রকৃত বিষয় বুঝে সিদ্ধান্ত দেব। একটু সময় লাগবে মাত্র।”
কবির বক্তব্য: ‘৪১ বছর আগের কবিতার জন্য পুরস্কার বাতিল’
পুরস্কার বাতিলের ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোহন রায়হান। আজ তাঁর ফেসবুক পাতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেখেন, “আপনারা জানেন, এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (কবিতায়) আমাকে দেওয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এই পুরস্কার আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। আমি কারও কাছে তদবিরও করিনি। পুরস্কার কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমার নাম নির্বাচন করে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গতকাল পুরস্কারপ্রাপ্তদের ডেকে এসএসএফ-এর মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সাল পর্যন্ত করানো হয়। কিন্তু আজ পুরস্কার নিতে এসে জানতে পারি, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতাটিকে কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়ে দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, কর্নেল তাহের (আবু তাহের) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর এবং সেনা অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব, যিনি পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।